নীলফামারী এক্সপ্রেস” নামকরনের দাবিতে চৌরঙ্গী মোড়ে মানববন্ধন করছেন নীলফামারীর সর্বস্তরের জনগণ।
রংপুরের ট্রেন রংপুর এক্সপ্রেস, পঞ্চগড়ের ট্রেন পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, লালমনিরহাটের ট্রেন লালমনি এক্সপ্রেস যদি হয় নীলফামারীর ট্রেন নীলফামারী এক্সপ্রেস কেন নয়?
১. একটি জনপদ, জেলা বা এলাকার দেশব্যাপী পরিচিতির জন্য সেই এলাকার কিছু ব্রান্ডিং প্রয়োজন হয়।ব্রান্ডিংগুলো হয় সেই এলাকার কৃতী সন্তান,কোনো বিখ্যাত স্থাপনা বা এলাকার কোনো নামকরা পণ্য দিয়ে।যেমন ধরা যাক,রাজশাহীর সিল্ক,টাঙ্গাইলের জামদানী, কুমিল্লার রসমালাই,নাটোরের কাচাগোল্লা,বগুড়ার দই বা চাঁদপুরের ইলিশ।যা দেশের মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়।রুপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ এর "বনলতা সেন" কবিতার মাধ্যমে নাটোর জেলা বাংলাদেশের সীমারেখা পেরিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও পরিচিতি অর্জন করেছে।তেমনি কুমিল্লার কৃতী সন্তান সচীন দেব বর্মন এর সুরেলা কন্ঠের যাদুতে ত্রিপুরা রাজ্য ও কুমিল্লা পুরো ভারত বর্ষেই খ্যাতি লাভ করেছে।ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান এর জন্য অখ্যাত মাগুরাও আজ দেশে সর্বজন পরিচিত জেলা।
২. বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলের নাটকগুলো অধিকাংশই ঢাকাইয়া, পাবনা-সিরাজগঞ্জ বা বরিশাল অঞ্চলের ভাষায় নির্মিত। ফলে অভিজ্ঞতায় দেখেছি সেই অঞ্চলের মানুষ নি:সংকোচে দেশের যেকোনো প্রান্তে নিজস্ব আঞ্চলিক ভাষায় নিজেদের মধ্যে কথা বলেছে।তাদের মধ্যে কোনো হীনমন্যতা দেখি নাই।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুবাদে দেশের প্রতিটি জেলায় আমার বন্ধু-শুভাকাঙখী রয়েছে।অনেক সময় খেয়াল করেছি কেউ কাউকে চিনে না কিন্তু যখনি জানতে পারছে তারা একই এলাকার তখনই নিরদ্বিধায় সম্বোধন করেছে 'বর্দ্দা হড্ডে' বা 'ভালা নি অ' অর্থাৎ বড়ভাই কেমন আছেন।কিন্তু এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে নিজ রংপুর অঞ্চলের পরিচিতদের নিয়ে।ঢাকায় তারা প্রায় কেউই একে অপরের সাথে রংপুরের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে না।যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে বা শিক্ষিত তারা শুদ্ধ ভাষায় কথা বলছে আবার যারা ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করে বা রিকশা চালায় তারা আধা ঢাকাইয়া ভাষায় কথা বলে।এর কারণ হলো তারা নিজেদের আঞ্চলিক ভাষায় অন্য এলাকায় ও অপরিচিতদের সামনে কথা বলতে হীনমন্যতায় ভোগে।যদি রংপুরের আঞ্চলিক ভাষাকে নাটক, সিনেমা বা সাহিত্যে প্রমোট করা যেত তাহলে নিশ্চয়ই এই পরিস্থিতির উদ্ভব হতো না।
৩. ঢাকায় পড়াশোনা ও রংপুর অঞ্চলের বাইরে চাকরির সুবাদে আমার প্রায়ই অন্য অঞ্চলের মানুষের সাথে আলাপ হয়।বিস্ময়করভাবে লক্ষ্য করেছি,অধিকাংশই নীলফামারী সম্পর্কে তেমন কিছু জানে না বা নীলফামারীর ভৌগোলিক অবস্থান কোথায় তা নিশ্চিত নয়।তখন বাধ্য হয়েই বলতে হয়,বৃহত্তর রংপুর বা পঞ্চগড়ের পাশে।এবং অনেককেই পেয়েছি যারা সৈয়দপুরকে জেলা মনে করে।তাই বাস্তবের অভিজ্ঞতার নিরিখে একথা ধ্রুব সত্য, একটি জেলা বা অঞ্চলের ব্রান্ডিং সত্যিই অনেক গুরুত্বপূর্ণ।নতুন ট্রেনের নাম "নীলফামারী এক্সপ্রেস" না হলে নীলফামারী জেলা ব্রান্ডিংয়ে পিছিয়ে যাবে এবং আবারো দেশের অনেক মানুষকে হয়ত বোঝাতে হবে, সৈয়দপুর ও চিলাহাটির মাঝখানে নীলফামারী জেলার অবস্থান।এই বিড়ম্বনা থেকে নীলফামারীর মানুষ মুক্তি চায়।
একজন গর্বিত নীলফামারীয়ান হিসেবে নতুন ট্রেনের নাম "নীলফামারী এক্সপ্রেস" নামকরণের দাবি জানাচ্ছি।

